Wednesday, October 25, 2017

দাঁতের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য যে ৫ টি খাবার

0

সুস্থ ত্বক পাওয়ার জন্য তো বটেই, সুস্থ পরিপাকযন্ত্র, হৃদপিন্ড, ফুসফুসের জন্য অথবা সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতার জন্য নানান ধরণের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া কথা বলা হয়ে থাকে। তবে সুস্থ সুন্দর দাঁতের জন্য কী খাওয়া উচিৎ সেটা কি আমরা জানি? অনেকেই ভাবতে পারেন দাঁতের সুস্থতার জন্য আদৌ কোন খাবার খেতে হয় কিনা! হ্যাঁ, দাঁতের উপকারের জন্য এবং দাঁতের সুস্থতার জন্য কিছু খাবার সকলের নিয়মিত খাওয়া উচিৎ।
এর পাশাপাশি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নিয়মিত দুইবেলা সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার কোন বিকল্প একেবারেই নেই। ডেন্টাল হাইজেনিষ্ট জুলি লিনজেল বলেন, "প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার বিশ মিনিট পরে দাঁত ব্রাশ করা এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করার দাঁত ভালো রাখার চমৎকার উপায়।" বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিবেলা খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশ করা খুব একটা সহজ কোন কাজ নয়। সেক্ষেত্রে প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার পরে দাঁত সুস্থ রাখার জন্য কিছু খাবার খাওয়া উচিৎ যা দাঁতের জন্য এবং মুখের ভেতরের সুস্থতার জন্য উপকারী। জেনে নিন এমন পাঁচটি খাবারের নাম।
১/ আপেল এবং গাজর
এই খাদ্য উপাদানগুলো ‘প্রাকৃতিক টুথব্রাশ হিসেবে পরিচিত এবং তার পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। আপেল এবং গাজর মুখের ভেতরের লালা (স্যালাইভা) কে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে এই দুইটি খাদ্য উপাদান খাওয়ার পরে মুখের ভেতরে খুব ফ্রেশ এবং পরিষ্কার বোধ হয়। একই সাথে খাওয়ার সময় এমন কিছু ফল নির্বাচন করতে হবে যেটাতে খুব বেশী পরিমাণে এসিড থাকবে না।  কারণ, অতিরিক্ত এসিড জাতীয় খাদ্য দাঁতের এনামেলের ক্ষতি সাধন করে থাকে।
২/ দুধ এবং পনীর
খাদ্য উপাদানে উপস্থিত থাকা এসিড দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তবে দুধ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য এক্ষেত্রে একেবারেই ভিন্ন। দুধ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য মুখের ভেতরের এসিডের পরিমাণ কমিয়ে আনে। একই সাথে, এক গ্লাস দুধ কিংবা এক টুকরো পনীর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যেও দারুণ উপকারী। ‘কানাডিয়ান ডেন্টাল এসোসিয়েশন’ এর প্রেসিডেন্ট ডারণ স্মিথ জানান, "এটি ক্ষুধা নিবারন করে এবং দুধে উপস্থিত চিনি দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ক্ষতিকর নয়।"
৩/ কাঁচা পেঁয়াজ
ভাত খাওয়ার সময় অথবা বিকালের নাস্তায় স্যান্ডউইচ তৈরীর সময়ে এক-দুই টুকরো কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোরিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষণা দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, কাঁচা পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। একটি গবেষণামূলক পরীক্ষা দেখে দেখা গেছে যে, পেঁয়াজ চার ধরণের ব্যাকটেরিয়াকে একেবারে মুছে ফেলতে সক্ষম। এই চার ধরণের ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ‘ক্যাভেটিজ’ এবং ‘গাম ডিজিজ’ এর জন্য দায়ী। যদিও কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মুখে পেঁয়াজের বিরক্তিকর গন্ধ থেকে যায়, তবে দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য অল্প করে হলেও খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ সকলের।
৪/ কাজু বাদাম
কাজু বাদামের খোসার তেলে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা মাইক্রোব-বিরোধী উপাদান। বিশেষ করে যে সকল ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষতের জন্য দায়ী, সে সকল ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজু বাদামের খোসার তেল দারুণ কাজ করে। শুধুমাত্র দাঁত পরিষ্কার এবং ভালো রাখতেই নয়, মুখের ত্বক ভালো রাখতেই কাজু বাদাম দারুণ উপকারী। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, মুখে ব্রণ তৈরি হবার জন্য যে ব্যাকটেরিয়া দায়ী, তার বিরুদ্ধে কাজু বাদাম খুব ভালো কাজ করে থাকে।
৫/ পানি
প্রতিবার খাওয়ার পর খুব ভালোভাবে পানি দিয়ে মুখ কুলি করতে হবে। এতে করে দাঁত পরিষ্কার হয়।  এমনকি, কুলি করার ফলে মুখের ভেতর পানির প্রবল আলোড়ন মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া সরানোর ক্ষেত্রে অনেকটা মাউথওয়াশের মতো চমৎকার কাজ করে থাকে। এছাড়াও শারীরিক সুস্থতা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যেও পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ।

0 comments:

Post a Comment

আপনার মূল্যবান কমেন্ট এর জন্য ধন্যবাদ।